সর্বশেষ
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য মুকিবুল ইসলামের শেষ বিদায়, গার্ড অব অনার শেষে কোটালীপাড়ায় জানাজা ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহত ১৭১৯, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫৯ হাজার নিবন্ধন ছাড়াই ‘সমবায়’-দৌলতপুরে ‘স্বপ্নধারা’ নিয়ে চাঞ্চল্য পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া – নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় রোনালদোর পর্তুগাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বুলেট ট্রেনে’ ডালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের পথে সারাদেশে একযোগে শুরু হলো এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রকৃত কার্যকর সংসদ পেয়েছে’ — স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য মুকিবুল ইসলামের শেষ বিদায়, গার্ড অব অনার শেষে কোটালীপাড়ায় জানাজা
জেলার খবর

নিবন্ধন ছাড়াই ‘সমবায়’-দৌলতপুরে ‘স্বপ্নধারা’ নিয়ে চাঞ্চল্য

Reporter: নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 12 Jul 2026 151 views

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় ‘স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ সরকারি নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়াই ‘সমবায়’ পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দুই শতাধিক সদস্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের ৮২৩/১৩, আপার যশোর রোড, হাজী শরীয়ত উল্লাহ মার্কেটে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কর্মীর মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে নিয়মিত অর্থ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে দিঘলিয়ার বারাকপুর এলাকার সুমি খাতুন, আড়ংঘাটার সিনথিয়া আক্তার মাহি, খালিশপুরের মরিয়ম খাতুন মিম এবং দিঘলিয়ার সেনহাটি এলাকার সুমি খাতুনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রতিবেদকের ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের সামনে বড় আকারের সাইনবোর্ডে ‘স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ডেও একই পরিচয় রয়েছে। অফিসে প্রবেশ করলে দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ জন কর্মচারী নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং সদস্যসেবা ও অফিস ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুর রহিম শিকদারের সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে প্রতিবেদকের সঙ্গে মৌখিক আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি আগে অন্য একটি সমবায়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছি। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন গ্রাহক ছিল। সেখান থেকে বের হয়ে এই প্রতিষ্ঠান করেছি। ওই প্রতিষ্ঠানের অনেক গ্রাহক এখন এখানে সদস্য হচ্ছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করব।”

প্রতিবেদকের বিভিন্ন প্রশ্নের একপর্যায়ে আব্দুর রহিম শিকদার দিঘলিয়া উপজেলার একজন সমবায় পরিদর্শককে প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনেন। পরে ওই কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তা কী কারণে একটি নিবন্ধনবিহীন বলে অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমবায় অফিসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমবায় আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা দেওয়ার আগে তাদের বৈধ নিবন্ধন ও কাগজপত্র যাচাই করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সর্বশেষ সংশোধিত) অনুযায়ী, নিবন্ধনপ্রাপ্ত সমিতিই কেবল আইনগতভাবে ‘সমবায়’ পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করা বা এমন পরিচয়ে জনসাধারণের কাছে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। অভিযোগের তদন্তে যদি প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, অর্থ সংগ্রহের বৈধতা এবং কার্যক্রমের প্রকৃত অবস্থা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Share: Facebook X WhatsApp