সর্বশেষ
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য মুকিবুল ইসলামের শেষ বিদায়, গার্ড অব অনার শেষে কোটালীপাড়ায় জানাজা ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহত ১৭১৯, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫৯ হাজার নিবন্ধন ছাড়াই ‘সমবায়’-দৌলতপুরে ‘স্বপ্নধারা’ নিয়ে চাঞ্চল্য পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া – নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় রোনালদোর পর্তুগাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বুলেট ট্রেনে’ ডালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের পথে সারাদেশে একযোগে শুরু হলো এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রকৃত কার্যকর সংসদ পেয়েছে’ — স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য মুকিবুল ইসলামের শেষ বিদায়, গার্ড অব অনার শেষে কোটালীপাড়ায় জানাজা
ইসলাম

অধিকার ত্যাগের শর্তে দ্বিতীয় বিয়ে কি জায়েজ?

Reporter: অনলাইন ডেস্ক 12 Jul 2026 179 views

প্রশ্ন: দ্বিতীয় স্ত্রী সব ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সমান অধিকার চাইতে পারবে না এ রকম শর্তে দ্বিতীয় বিয়ে করা কি জায়েজ? এ রকম শর্তে বিয়ে করলে কি স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা জরুরি নয়?

উত্তর: ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে সব স্ত্রীর হক সমানভাবে, কোন ধরনের বৈষম্য ছাড়া আদায় করতে পারার শর্তে। আল্লাহ তাআলা বলেন, নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তাহলে একটিই। (সুরা নিসা: ৩)

একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা হারাম ও কবিরা গুনাহ। সব স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ না করলে আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার দুইজন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে। (সুনানে আবু দাউদ)

স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষার মানে হলো, তাদের বাসস্থান, খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রাত্রি যাপনের ব্যাপারে সমতা বজায় রাখতে হবে। সব স্ত্রীকে একই মানের বাসস্থানে রাখতে হবে, তাদের জন্য একই মানের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে। সব স্ত্রীর সঙ্গে সমান সংখ্যক রাত কাটাতে হবে।

শরিয়ত প্রদত্ত এই অধিকার ত্যাগ করার শর্তে কোনো নারীকে বিয়ে করা সমীচীন নয়। যদি বিয়ের সময় এ রকম শর্ত দেওয়া হয়, তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে, শর্ত বাতিল হয়ে যাবে। বিয়ের পর স্ত্রী সব ক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা ও পূর্ণ অধিকার দাবি করতে পারবে। বিয়ের আগে বা পরে স্ত্রী স্বেচ্ছায় কোনো অধিকার ত্যাগ করার পর পুনরায় সেগুলোর দাবি উত্থাপন করলে স্বামীর ওপর সেই অধিকারসমূহ পূরণ করা ওয়াজিব।

তাই কারো যদি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকে এবং বিয়ের পর উভয় স্ত্রীর অধিকার যথাযথভাবে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ও সমতার সঙ্গে আদায় করতে সক্ষম হন, তাহলেই তার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে। কারো যদি পর্যাপ্ত আর্থিক বা শারীরিক সামর্থ্য না থাকে, অথবা আশঙ্কা থাকে যে, দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত সমতা রক্ষা করতে পারবেন না, তাহলে তার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ নয়।

Share: Facebook X WhatsApp